দারুল ইকামা

দারুল ইকামা

মুফতি আবুল কালাম
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

জামিয়াতুল লতিফ রপগঞ্জের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান সুনিশ্চিত করণের পাশাপাশি তাদের চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন, শৃঙ্খলাবোধ ও আত্মোন্নয়নের জন্য রয়েছে একটি সুসংগঠিত ও নিয়মানুবর্তী আবাসিক ব্যবস্থাপনা, যা পরিচালিত হয় ‘দারুল ইকামা’র অধীনে। জামিয়ার সকল শিক্ষার্থীকে আবশ্যিকভাবে দারুল ইকামা কর্তৃক সকল নিয়মাবলী মেনে চলতে হয়। 

পালনীয় নিয়মাবলী : ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নেককার বান্দা ও দ্বীনের সত্যিকার খাদেম হওয়ার মানসে জামিয়াতুল লতিফ রূপগঞ্জ-এর ছাত্রদের জন্য নিম্নলিখিত কানুনসমূহ পালন করা অপরিহার্য।

০১. সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন ও সর্বকাজে রাসুলুল্লাহ সা. এর সুন্নাহের অনুকরণ-অনুসরণ করার প্রতি সচেষ্ট থাকা।

০২. সাহাবায়ে কেরাম, আয়িম্মায়ে দ্বীন ও আকাবিরে দেওবন্দ তথা; আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকাইদ ও মাসলাকের পূর্ণ বিশ্বাসী ও অনুসারী থাকা আবশ্যক। এর পরিপন্থী কোনো বাতিল-পথভ্রষ্ট মত ও পথ বিশ্বাস বা সমর্থন বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও না করা।

০৩. জীবনের সকল ক্ষেত্রে শরীয়তে মুতাহহারার যাবতীয় বিধি-নিষেধ পুরোপুরি মেনে চলা। আচার-আচরণ ও লেবাস-পোশাকে সুন্নাত ও সালফে ছালেহীনের অনুসরণ করা। তাছাড়া লেবাসের ক্ষেত্রে জামিয়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত লেবাস তথা; ‘হিফজ বিভাগ : অ্যাশ কালার পাঞ্জাবী, সাদা পায়জামা, পাঁচকল্লি টুপি ও পাগড়ি, কিতাব বিভাগ : সাদা পাঞ্জাবী, সাদা পায়জামা, পাঁচকল্লি টুপি ও পাগড়ী’ পরিধান করা।

০৪. সর্বপ্রকার বেদাআত-রুসুমাত ও জাহেরী-বাতেনী সকল গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা। বিশেষ করে সে সব গুনাহ থেকে যেগুলো পরিবেশের মাঝে এমনভাবে অনুপ্রবেশ করেছে যে, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা বিশেষ ব্যক্তিবর্গও সেগুলোকে গুনাহের তালিকা থেকে বের করে দিয়েছে। যেমন : দাড়ি মুন্ডানো অথবা এক মুষ্টি থেকে কম রাখা। শরয়ী পর্দা না করা। পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা। গান-বাজনা ও চলচ্চিত্রসহ গুনাহের যাবতীয় উপকরণের সাথে জড়িত থাকা। চোখের হেফাজত না করা। শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া ছবি উঠানো, রাখা ও দেখা। হারাম উপার্জন যেমন : সুদ, ঘুষ, ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্সের আয় গ্রহণ করা। গীবত-শেকায়াত, চোগলখোরি, পরনিন্দা ইত্যাদি মারাত্মক আত্মঘাতী গুনাহসমূহে লিপ্ত হওয়া।

০৫. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সর্বদা তাকবীরে উলার সাথে আদায় ও জামাতের পাবন্দির লক্ষ্যে প্রত্যেক নামাযের ১০ মিনিট পূর্বে আবশ্যিকভাবে মসজিদে উপস্থিত থাকা। শরয়ী ওজর ব্যতীত জামাত তরক বা মাসবুক না হওয়া।

০৬. আজানের পর থেকে নামাযপরবর্তী মাসনূন দোয়া আদায় পর্যন্ত অনর্থক কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা।

০৭. জাহেরী ইলম অর্জনের পাশাপাশি বাতেনী ইলম অর্জনে সদা সচেষ্ট থাকা তথা; আত্মশুদ্ধির চেষ্টা-ফিকিরে নিমগ্ন থাকা।

০৮. মাদ্রাসার কল্যাণে যেকোনো খেদমতের প্রয়োজন হলে নিজের জন্য তা গণিমত মনে করে সানন্দে তা আঞ্জাম দেওয়ার চেষ্টা করা।

৯. আসাতেযায়ে কেরাম ও জামিয়ার সকল স্টাফদের প্রতি পূর্ণ আদব ও সম্মান প্রদর্শন করে চলা। কারো সাথে কোনো ধরণের বেয়াদবি, দুর্ব্যবহার ও অসমীচীন আচরণ না করা।

১০. মাতা-পিতা, উস্তাদ ও মুরুব্বীগণের খেদমত এবং তাঁদের দোয়াকে উভয় জাহানের কামিয়াবির চাবিকাঠি মনে করা।

১১. সর্বাবস্থায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়াল রাখা এবং ব্যক্তিগত আসবাবপত্র নিজ দায়িত্বে হেফাজত করা। কোনো সামানা হারানো গেলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

১২. সর্বদা জামিয়ার যাবতীয় আসবাবপত্র হেফাজতের প্রতি আন্তরিক দৃষ্টি রাখা।

১৩. আসবাবে ইলম তথা; কিতাব, খাতা, কলম, টেবিল ইত্যাদির হেফাজত ও সম্মান করাকে ইলমি তারাক্কির সিঁড়ি মনে করা।

১৪. উপন্যাস, ম্যাগাজিন, পত্রিকা পড়া, খবর শুনা, খেলা দেখা বা কোনো ধরণের আপত্তিকর খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা।

১৫. রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত থাকা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

১৬. পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রাখা। ঝগড়া-ফ্যাসাদ, বেহুদা কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা। বিশেষত হাতে মশকারি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

১৭. বিনা অনুমতিতে অন্যের জিনিস ব্যবহার করা নিষেধ, যদিও তা স্বল্প হয়।

১৮. কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত কোনো মেহমানকে রাতে মাদ্রাসায় রাখা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ।

১৯. বিনা অনুমতিতে পরস্পর বেচা-কেনা, হাদিয়া-তোহফা আদান-প্রদান বা কর্জের লেনদেন করা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ।

২০. কোনো অবস্থাতেই অনুমতি ব্যতিত গেইটের বাইরে যাওয়া নিষেধ।