
তাদরীবুল হুফফাজ
জামিয়ার কিতাব বিভাগের হাফেজ ছাত্রদের হিফজের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং গায়রে হাফেজদের নিয়মিত তিলাওয়াতসহ কুরআনে কারীমের উল্লেখযোগ্য অংশ হিফজ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “তাদরীবুল হুফফাজ” বিভাগ। কুরআনে কারীমের হিফজ, তিলাওয়াত ও দাওরকে আরও কার্যকরী ও মানসম্মত করতে এই বিভাগের অধীনে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য :
দৈনন্দিন তিলাওয়াত
হাফেজ ছাত্রদের জন্য প্রতি সপ্তাহে ৩ পারা তিলাওয়াত ও দাওর করা আবশ্যক। তাই প্রতিদিন ফজরের পর থেকে হাফেজ ছাত্রদের তিলাওয়াতের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। উস্তাদগণের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ইবতেদাইয়্যাহ থেকে মুতাওয়াসসিতাহ ২য় বর্ষ পর্যন্ত দৈনন্দিন তিলাওয়াতের পরিমাণ তাদরীবুল হুফফাজ কর্তৃক রিপোর্ট খাতায় উল্লেখ করে জমা দিতে হয়। বাকিদের সাপ্তাহিক দারুল ইকামা কর্তৃক রিপোর্ট পেশ করতে হয়।
নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দাওর
যোহরের পর পূর্ণ একটি দরস (৪৫ মিনিট) দাওরের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। যেখানে হাফেজ ছাত্ররা সকালে তিলাওয়াতকৃত অংশ পরস্পর দাওর (শুনাশুনি) করে দায়িত্বশীল উস্তাদের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।
সাপ্তাহিক পরীক্ষা
সাপ্তাহিক তিলাওয়াতের নির্ধারিত অংশ প্রতি সোমবার বাদ যোহর পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার নাম্বারের ভিত্তিতে সবার স্বতন্ত্র রিপোর্ট তৈরি করা হয়।
ত্রৈমাসিক প্রতিযোগিতা
হাফেজ ছাত্রদের বাৎসরিক ৩টি প্রতিযোগিতা হয়। যা সাধারণত সেমিস্টারভিত্তিক একাডেমিক পরীক্ষার পূর্বে হয়ে থাকে। প্রথম দুই সেমিস্টারে ১০ পারা ও তৃতীয় সেমিস্টারে পূর্ণ কুরআনে কারীমের প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারীদের জামিয়ার পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়।
গায়রে হাফেজদের জন্য কর্মসূচি
সেমিস্টারভিত্তিক তাদের জন্য মশকের সুব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি দৈনন্দিন তিলাওয়াতসহ কুরআনে কারীমের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হিফজ করা বাধ্যতামূলক।
দেশবরেণ্য কারীগণের মাধ্যমে মশকের ব্যবস্থা
জামিয়ার সকল ছাত্রদের তিলাওয়াতের মানোন্নয়ন ও বিশুদ্ধকরণের লক্ষ্যে জামিয়া কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় দেশবরেণ্য কারীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সপ্তাহব্যাপী মশকের ব্যবস্থা করে থাকেন। সপ্তাহব্যাপী এই কর্মশালায় জামিয়ার সকল ছাত্রের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
আলহামদুলিল্লাহ! তাদরীবুল হুফফাজের এই উদ্যোগগুলো কিতাব বিভাগের হাফেজ ছাত্রদের হিফজকে মজবুত করার পাশাপাশি গায়রে হাফেজদের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত সুনিশ্চিতকরণ ও হিফজের প্রতি মনোযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।