দাওয়াত ও তাবলীগের কার্যক্রম

দাওয়াত ও তাবলীগের কার্যক্রম

মুফতি উসমান গনী
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দ্বীন প্রচারে দাওয়াত ও তাবলীগ। এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীন তথা ইসলাম আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে যুগে যুগে। আর এ কাজের জন্য আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ তথা; নবী-রাসূলগণকে বেছে নিয়েছেন। সে মতে মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন হতে মানবসমাজে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ চলমান। মহান রাব্বুল আলামিন এই পৃথিবীতে এক লাখ বা দুই লাখ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর প্রেরণ করেছেন। সবাই তাঁর একত্ববাদের তাবলীগ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এই ধরাপৃষ্ঠে আগমন করে সম্পূর্ণ প্রতিকূলতার মধ্যেও শান্তি, কল্যাণ ও একত্ববাদের প্রচার করেছেন। বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন ইসলামের মর্মবাণী; যার ফলে আইয়ামে জাহেলিয়াত পরিণত হয়েছিল সোনালি যুগে। বিদায় হজের ভাষণে প্রিয় নবী সা. ঘোষণা করেছিলেন, “আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও।”

এর পরিপ্রেক্ষিতে জনসমাজে দীনি দাওয়াত প্রচারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নিমিত্তে অত্র জামিয়ায় তাবলীগের মেহনতের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য :

সাপ্তাহিক গাশত

জামিয়ার ছাত্রগণ মহল্লার বিভিন্ন মসজিদে সপ্তাহব্যাপী প্রায় প্রতিনিয়ত বেরুনী গাশত করে থাকে, আলহামদুলিল্লাহ!

২৪ ঘন্টার মেহনত

মুরুব্বিদের নেজাম অনুযায়ী প্রতি বৃহস্পতিবার জামিয়ার শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘন্টার মেহনতকে সামনে রেখে থানাব্যাপী বিভিন্ন মসজিদে ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার জুমার পর মাদ্রাসায় ফিরে এসে পূণরায় পড়ালেখায় মগ্ন হয়ে পড়ে।

বিরতিকালীন চিল্লা বা ৩/৭/১০ দিনের মেহনত

ঈদ ও পরীক্ষার বিরতিকালীন সময়ে জামিয়ার শিক্ষার্থীরা বাড়ি যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে ৩ ও ৭ দিনের মেহনতে আল্লাহর রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। বার্ষিক পরীক্ষার বিরতিতে রমজানকে সামনে রেখে ৪০ দিনের জামাত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।

গাশতের দিন মাগরিবের পর শিক্ষকদের বয়ান

দ্বীনের তাকাযা সামনে রেখে জামিয়ার ওস্তাদগণ দাওয়াতের অন্যান্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি গাশতের দিনগুলোতে এলাকার মসজিদসমূহে মাগরিবের পর বয়ান করে থাকেন।

শবগুজারী

প্রতি বৃহস্পতিবার থানা মারকাজে শবগুজারিতে জামিয়ার ছাত্র-উস্তাদগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন, আলহামদুল্লিাহ!

বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ

প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমা ও ৫ দিনের জোড়সহ মুরুব্বিদের যেকোনো কর্মসূচিতে জামিয়ার ছাত্র-শিক্ষকরা সাড়া দেন।