আল কাসিম ছাত্র কাফেলা

আল কাসিম ছাত্র কাফেলা

মাওলানা আলতাফ আব্দুর রউফ
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

দ্বীন ও সমাজের সকল পরিসরে জামিয়ার সন্তানরা যেন সফল ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য রয়েছে জামিয়ার নানামুখী আয়োজন। এসব আয়োজন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘আল কাসিম ছাত্র কাফেলা’ নামক ছাত্র সংসদ।  

আল কাসিম ছাত্র কাফেলা প্রতিভা বিকাশের আতুড়ঘর। স্বপ্ন পূরণের কেন্দ্রস্থল। এখানে নিবিড় পরিচর্যায় প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। হীনম্মন্যতা আর আড়ষ্টতা দূর করে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে দেওয়াই ছাত্র কাফেলার মূল লক্ষ্য।

তাছাড়া পাঠ্য পুস্তকের পাশাপাশি এ ধরণের সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা তাদেরকে আগামী দিনে প্রতিভাবান আলেম ও সমাজে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সঠিক দিকনির্দেশনা

প্রদান করে।

ছাত্র কাফেলার কর্মসূচী

ছাত্র পাঠাগার : একাডেমিক পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ছাত্রদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃতির লক্ষ্যে সমকালীন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগতির জন্য তথ্যবহুল বই-পুস্তক সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার রয়েছে।

বক্তৃতা প্রশিক্ষণ : রাসূলের বাণী “আমার পক্ষ হতে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও”-এর বাস্তব মূল্যায়নকে সামনে রেখে তালেবে ইলমদের ইলম অর্জনের পাশাপাশি তা সুন্দর সাবলীল ভাষায় সর্বজনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ছাত্র কাফেলা আয়োজন করে সাপ্তাহিক শিক্ষা সেমিনার, মাসিক ও বার্ষিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা।

হিফজুল হাদীস প্রতিযোগিতা : আলেম ও তালেবে ইলম মাত্রই অধিক পরিমাণে হাদীস মুখস্ত থাকা তার গুরুদায়িত্ব। কেননা জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় হাদীসের গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং শিক্ষার্থীদের মাঝে হাদীস মুখস্তের প্রতি আগ্রহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছাত্র কাফেলা আয়োজন করে হিফজুল হাদীস প্রতিযোগিতা।

ইবারত পাঠ প্রতিযোগিতা : ইবারত পাঠ আমাদের ইলমি সিলসিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণ শিক্ষাধারায় যেমন বেসিক লিটারেসিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়, তেমন ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থায় বিশুদ্ধ ইবারত পাঠকে মনে করা হয় মৌলিক বিষয়। বিশুদ্ধ ইবারত পাঠই স্বাধীনভাবে যেকোনো বিষয় যাচাই-বাচাইয়ে সক্ষম করে তুলে। এর গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখেই ছাত্র কাফেলা প্রত্যেক জামাতে ইবারত পাঠ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করে থাকে।

দেয়ালিকা : পাশ্চাত্যমুখী বিকৃত রুচির বিরুদ্ধে ইসলামী সাহিত্যের নির্মল জ্যোতি বিকিরণের লক্ষ্যে ছাত্রদেরকে কলম সৈনিক রূপে গড়ে তোলার জন্য বাংলা ও আরবি ভাষায় ত্রৈমাসিক দেয়ালিকা প্রকাশ করা হয়।

আসাতেযায়ে কেরামের বিষয়ভিত্তিক মাসিক মুহাজারা : জামিয়ার মুহতারাম আসাতেযায়ে কেরাম প্রত্যেক মাসের ১ম সপ্তাহে সমসাময়িক বিষয়ে জ্ঞানগর্ব মুহাজারা পেশ করে থাকেন ও মুহাজারার সারসংক্ষেপ শীট আকারে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। অতঃপর ছাত্র কাফেলার পক্ষ থেকে পরবর্তী ২ সপ্তাহ শিক্ষার্থীদের জন্য উক্ত বিষয়ে বক্তৃতা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, এছাড়াও ছাত্র কাফেলার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। যথা;

  • ১৫ জিলকদ থেকে ২০ জিলকদ-এর মধ্যে ছাত্র কাফেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • ঈদুল আযহা পূর্ববর্তী কুরবানীর মুবাহাসা ও ফাযায়েল-মাসায়েল মাহফিল।
  • ভাষা শহীদ দিবস (২১শে ফেব্রুয়ারী)-এ বাংলা ভাষা বিষয়ক বক্তব্য অনুষ্ঠান, কুইজ প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলা ।
  • স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ)-এ স্বাধীনতা সংগ্রাম বিষয়ক বক্তব্য, কুইজ প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলা।
  • রবিউল আউয়ালে সিরাতুন্নবী সা. বিষয়ক বক্তব্য ও কুইজ প্রতিযোগিতা।
  • বিজয় দিবস (১৬ই ডিসেম্বর)-এ স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ বিষয়ক বক্তৃতা ও কুইজ প্রতিযোগিতা ।
  • ১০-১৫ জুমাদাল আখিরাহ-এর মধ্যে বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এটি ছাত্র কাফেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় প্রশিক্ষণমূলক আয়োজন।